হাঁটার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর; কিন্তু সঠিক নিয়ম মেনে না হাঁটলেই হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি!

সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা, খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটার অভ্যাসও বেশ কার্যকরী উপায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটলে শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনই একাধিক রোধ-ব্যাধি থেকেও দূরে থাকা যায়। কিন্তু জানেন কি প্রতিদিন ঠিক কতটা হাঁটা জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটারও একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সঠিক নিয়ম মেনে না হাঁটলে সুস্থ থাকা তো দূরের কথা উল্টে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও! আসুন জেনে নেওয়া যাক হাঁটার সঠিক নিয়ম-কানুন…

বছর খানেক আগে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মধ্যবয়সী মানুষের ওপর গবেষণায় চালায় ইউরোপের জনপ্রিয় দ্বিসাপ্তাহিক পত্রিকা ‘হার্ট’। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় দু’বছরের মধ্যেই। এঁদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষ মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। গবেষকরা দেখেছেন, এঁদের হাঁটাচলার গতি ছিল বেশ মন্থর।

গবেষকদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষকে দিনে অন্তত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটতেই হবে। দ্রুতগতিতে হাঁটলে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬ ক্যালরি খরচ হবে। ৪৫ মিনিট এই গতিতে হাঁটলে শরীর থেকে প্রায় ২৫০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব। হাঁটা শেষে একটু বিশ্রাম বা অল্প ফল খেলে শরীর আর হার্টও থাকবে সুস্থ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে প্রতিদিন না হাঁটলেও চলবে। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে হেঁটেও ওজন কমানো সম্ভব। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ৩০ মিনিট হাঁটলেই হৃৎপিণ্ড তার স্থায়ী গতিশীল অবস্থায় (Low Intensity Steady State) পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর জন্য ঘণ্টায় ২.৫ থেকে ৩.৩ কিলোমিটার গতিতে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। তবে হ্যাঁ, শুধু হাঁটলেই হবে না। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। এরই সঙ্গে খাবার পাত থেকে অতিরিক্ত চিনি বা নুন বাদ দিতে হবে।

১) ৪০-৫০ বছর বয়সীদের হাঁটার প্রভাব: ৪০-৫০ বছর বয়সিদের হাঁটুতে ওভারইউজ ইনজুরি, দীর্ঘদিন ধরে একই জয়েন্টকে কাজ করানোর ব্যথা হবেই। বিশেষ করে ফুটপাথ বা রাস্তায় জগিং করলে ব্যথা আরও বাড়বে।

২) পেশির ক্ষয়: দীর্ঘক্ষন কার্ডিও শরীরচর্চা করলে শরীরে কর্টিজোল নামে হরমোনের ক্ষরণ হয়। এতে শরীরে ক্লান্তি আসে, পেশির ক্ষয় হয়। পেশির ক্ষয় ওজন কমানোর গতি কমিয়ে দেয়। তাই বুঝে হাঁটুন মাঝ বয়সিরা অবশ্যই দিনে ৪০ মিনিটের বেশি হাঁটবেন না। তবে জোরে নয় গতি রাখুন মাঝারি।

তাই বয়স আর শরীর বুঝে হাঁটুন নিয়ম মেনে। তাহলেই সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.